টিনএজ মনের ইতিবৃত্ত

" -1

মানব মনের তল পাওয়া কঠিন।মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে চেনা জানার পরও তার
মনের গতিপ্রকৃতি বুঝে ওঠা দায়।আর Teenage মন হল Most unpredictable.কারণ Teenage
মন পরিচালিত হয় আবেগ দ্বারা,টিনএজ মন মানে না যুক্তি।কিছুদিন আগেও
যারা শিশু ছিল তাদের এই হঠাত্ আচরণ পরিবর্তন বাবা মা সহ পরিপার্শ্বের
সবার নজর কেড়ে নেয়।সদ্য শৈশব পেরোনে টিনএজদের মস্তিষ্কে চলে নানা
রাসায়নিক পদার্থের খেলা।পিটুইটারি সহ অন্যান্য গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত
নানা হরমোন টিনএজারদের দেহ মনে আনে নানা পরিবর্তন।দৈহিক পরিবর্তন
এই প্রবন্ধের মুখ্য বিষয় নয়।টিনএজ মনের নানা বিষয়ই এখানে ফুটিয়ে তোলার
চেষ্টা করা হয়েছে।টিনএজ সময়কাল,টিনএজারদের অস্বাভাবিক
আবেগ,তাদের মনোযোগের অভাব,বাবা মায়ের সাথে দ্বন্দ্ব,হঠাত্ করে
প্রেম,প্রেমের কারণে অদ্ভুত সব কর্মকান্ড,অন্যের মনোযোগ আকর্ষনের
চেষ্টা,অস্থিরতা,জীবন সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা,হঠাত্ করে মুড খারাপ
করা,ঘরের দরজা বন্ধ করে একাকী থাকা,বিষণ্নতায় ডুবে যাওয়া,মোবাইল
ফোনকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বিবেচনা করা,আত্মহত্যার চিন্তা ও
চেষ্টা,খারাপ বন্ধুর প্ররোচনা,ভুল করে ক্রমাগত অনুতাপের দহনে দগ্ধ
হওয়া,রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতে না পারা,খাদ্যের প্রতি অনীহা,সামান্য
কারণে অভিমান করা,নিজের সমস্যাকে সবচেয়ে বড় মনে করে ভেঙ্গে পড়া
প্রভৃতি বিষয় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এখানে উপস্থাপন করার চেষ্টা
করা হয়েছে।
সময়কাল :টিনএজ কখন শুরু হয় এটা নিয়ে মতপার্থক্য আছে কারণ সবার ক্ষেত্রে একই
সময় হয় না।তাই টিনএজ নিরুপণের নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি নেই।তবে
সাধারণভাবে 12-19 বছর বয়স পর্যন্ত টিনএজ বিবেচনা করা হয়।এই মাপকাঠি
দৈহিক পরিবর্তনের ভিত্তিতে করা হয়েছে।মনের পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট বয়স
নিরুপণ করা যায় না।কারো কারো ক্ষেত্রে আগে কারো ক্ষেত্রে বেশ পরে
আসে এই পরিবর্তন।ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের দ্রুত আসে টিনএজকাল।মেয়ের
া এই পরিবর্তনগুলো তাড়াতাড়িই ধরতে পারে তাই তাদের মনের পরিপক্বতাও
হয় দ্রুত।সেই কারণে অনেক ছেলের ভেতর শিশুসুলভ আচরণ অনেকদিন পর্যন্ত
পরিলক্ষিত হয় অনেকের তো সারাজীবনই এই শিশুসুলভ মনের অনেকটাই বজায়
থাকে।
part 2
টিনএজ মস্তিষ্ক :সদ্য শৈশব অতিক্রম করা টিনএজদের মস্তিষ্কের সাথে প্রাপ্ত
বয়স্তদের মস্তিষ্কের পার্থক্য আছে।Brain scan এ দেখা গেছে টিনএজারদের
মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ বা Grey matter ঘনত্ব অপ্রত্যাশিতভাবে পরিবর্তিত
হয়েছে।এই ধূসর পদার্থ মস্তিষ্কের বাইরের ভাজ করা অংশ বা কর্টেক্স গঠন করে।
কর্টেক্সে চিন্তা এবং স্মৃতির প্রক্রিয়াজাতকরণ হয়।শৈশবে cortex এর grey matter
প্রথমে বাড়ে, পরে কমে।টিনএজে এই ঘনত্ব হ্রাস পায় এবং পরিপক্বতা অর্জনের
প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটে।Scan থেকে দেখা যায় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ
বিভিন্ন সময়ে পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়।মস্তিষ্কের যে এলাকাগুলো বেশি মৌলিক
কাজের সাথে যুক্ত সেগুলো দ্রুত পূর্ণতা পায়।যেমন-তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ
অঞ্চল,চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী এলাকা।আলোচ্য ধূসর পদার্থগুলো মূলত নিউরনের
কোষদেহ দিয়ে গঠিত হয়।টিনএজে সিনাপস এর সংখ্যা আস্তে আস্তে কমতে
থাকে।এটাকে পূর্ণতা প্রাপ্তির লক্ষণ বলা যায়।এতে মস্তিষ্ক আরো কর্মক্ষম
হয়ে ওঠে।Synapse কমে যাওয়ার পেছনে gene এরও ভূমিকা আছে।যে synapse
গুলো বেশি ব্যবহৃত হয় এবং শক্তিশালী সেগুলো টিকে থাকে বাকিগুলো
ধ্বংস হয়ে যায়।এই সময় brain এর বিভিন্ন অংশের মধ্য সংযোগ বৃদ্ধি পায়।brain এর
বিকাশের সাথে সাথে স্নায়ুকোষের যোজক তন্তুর উপর এক প্রকার প্রোটিনের
আবরণী জমা হয়।এতে করে এক কোষ থেকে অপর কোষে Impulse এর গতি বেড়ে
যায়।উন্নত শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার যেমন উন্নতি হয় তেমনি মস্তিষ্কের
যোগাযোগও বৃদ্ধি পায়।এই সংযোজনের ব্যাপ্তি মানসিক বৃদ্ধির সাথে
সম্পর্কিত যেমন স্মৃতিধারণ ক্ষমতা এবং পড়ার সামর্থ্য।গবেষণায় আরো প্রমানিত
হয়েছে যে আবেগজনিত সাড়াদানের সাথে জড়িত অঞ্চলও পরিবর্তিত হয়।
Scaning image পর্যালোচনায় দেখা যায় কোন আবেগজনিত আলোকচিত্র Teenage
দের brain কে শিশু ও বয়স্কদের তুলনায় বেশি আলোড়িত করে।
Part 3
দুটি Neurotransmitter টিনএজে মস্তিষ্কের বিকাশে অবদান রাখা তা হল
গ্লুটামেট ও ডোপামিন।গ্লুটামেট একটি উত্তেজক নিউরোট্রান্সমিটার।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আনন্দের অনুভূতির সাথে ডোপামিন জড়িত।টিনএজে
লিম্বিক সিস্টেমে ডোপামিন লেবেল বৃদ্ধি পায়।এই মাত্রা বৃদ্ধি
টিনএজারদের ঝুঁকিগ্রহণে এবং বেশি আবেগ প্রদর্শনের দিকে নিয়ে যায়।
Limbic system এর বিকাশ এবং মস্তিষ্কে ডোপামিন এবং সেরোটোনিন এর
পরিবর্তনের সাথে টিনএজদের আবেগের এবং বিভিন্ন বস্তুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির
পরিবর্তন ঘটায়।টিনএজ সময়কালকে দ্রুত cognitive development এর সময় বলা হয়।
( cognitive বলতে বোধশক্তির মানসিক প্রক্রিয়া বলা যায় ). 'Piaget' টিনএজকে
জীবনের এমন এক পর্যায় বলেছেন সে সময় ব্যক্তির মধ্যে স্বতন্ত্র চিন্তার
আর্বিভাব হয় এবং এই চিন্তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিমূর্ত হয় এবং Egocentric
চিন্তা হ্রাস পায়।Functional MRI তে টিনএজের Cognitive skill এর বৃদ্ধি ধরা
পড়েছে।টিনএজে যেসব চিন্তা এবং ধ্যানধারণা গড়ে ওঠে সেগুলো ভবিষ্যত্
জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবান্বিত করে।ভবিষ্যতের চরিত্র ও ব্যক্তিত্বের
অনেকটাই টিনএজে ফুটে ওঠে।এই বয়সে অর্জিত অভিজ্ঞতা,জ্ঞান এবং
সামাজিক আচরণ ভবিষ্যতের ব্যক্তি নির্মাণ করে।টিনএজ আচরণের উন্নতির
চারটি দিক নিম্নরুপ
1.মনোযোগ : এ সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতার উন্নতি হয়।খন্ড
খন্ড ক্ষেত্রে মনোযোগের সামর্থ্য বৃদ্ধি পায়।
2.স্মৃতি :টিনএজে working memory এবং দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতির উন্নতি হয়।
3.processing speed: টিনএজারারা শৈশবকালের চেয়ে দ্রুত চিন্তা করে এবং
আস্তে আস্তে ভাবনা চিন্তার পর সিদ্ধান্ত নেয়।
4.Metacognition:এটা চিন্তার উপর চিন্তাকে বোঝায়।অর্থাত্ সে যা চিন্তা
করছে সেই সম্পর্কে চিন্তা করা বোঝায়।
টিনএজ প্রেম :ভালবাসা এক ধরণের ইতিবাচক আবেগ।এই আবেগ তৈরির জন্য
বাইরের উদ্দীপক প্রয়োজন যা মনে আলোড়ন তৈরি করে,মনকে বিচলিত বা
উত্তেজিত করে।এই বয়সে বিপরীত লিঙ্গের কারো একটুখানি
,হাসি,চাউনি,সরলতা,ছেলেমানুষী,অসহায়তা দেখে তার প্রতি একটা কোমল
অনুভূতি তৈরি হয়।চোখ দিয়ে কাউকে দেখে ভালো লাগার অনুভূতি
মস্তিষ্কে পৌছে যায় তখন মস্তিষ্কে ঝড় ওঠে।ভালো লাগার তীব্রতা
কিশোর বয়সের বড় বৈশিষ্ট্য।মস্তিষ্কে নিঃসরিত হয় "P" (ফিনাইল ইথাইল
Amine ) নামক রাসায়নিক পদার্থের যা তীব্র নাড়া খাওয়া,ভালো লাগা ও
ভালবাসার জন্য দায়ী।কাউকে ভাললাগা ইচ্ছাকৃত নয়।যে কাউকে যে কোন
পরিস্থিতিতে ভালো লাগতে পারে।ভালো বৈশিষ্ট্য বা ফিগার বা
সৌন্দর্য মনে দোলা দিতে পারে।ভেতরে ভালো লাগা থাকে অথচ
অনেকসময় বাইরে তার প্রকাশ ঘটে না।বিভিন্ন আচরণে তা প্রকাশ পায়।একে
অন্যকে অবজ্ঞা করা বা আঘাত দিয়ে কথা বলার অন্তরালে অনেক সময় লুকিয়ে
থাকে ভালোবাসা।
উঠতি বয়সী ছেলেমেয়ের শরীরে নানারকম হরমোনের খেলা চলে।টিনএজ মন
থাকে অশান্ত,অস্থির ও অধৈর্য।আচমকা কারো প্রেমে পড়া টিনএজারদের
বেলায় অস্বাভাবিক নয়।টিনএজ প্রেমের জোয়ারের ঢেউ সুনামীর চেয়ে উঁচু।
টিনএজ প্রেমকাহিনী নিয়ে দশ বারটা প্রেমের মহাকাব্য লিখে ফেলা যায়।
এই বয়সের প্রেমের দাপট সব কিছুকে দুমড়ে মুচড়ে দিতে যায়।আর ভুলও বেশি হয়
এই বয়সে।অকালে অনেক কুঁড়ি ঝরে যায় যাদের প্রস্ফুটিত হয়ে সুগন্ধ ছড়ানোর
কথা।অনেক কিশোর কিশোরী ঘুমের বড়ি খায়,ব্লেড দিয়ে হাত পা কেটে
নিজেকে শাস্তি দেয়,অনেকে আত্মহত্যা করে।
টিনএজের বন্ধুত্ব অনেক গভীর হয়।দুইজন ছেলে বা দুইজন মেয়ের মধ্যে গড়ে ওঠা
এই বয়সের বন্ধুত্ব আজীবন অটুট থাকতে পারে।তবে একজন ছেলে বা একজন মেয়ের
এই বয়সের বন্ধুত্ব স্থায়ী হয় না যদিও এই বন্ধুত্ব গভীর মনে হয়।কিন্তু এতে অনেক
চিড় থেকে যায়।
এই বয়সের ধাক্কা সামলাতে পারলে বাকি জীবনটা সুন্দরভাবে কাটে।এই
বয়সে তুই তোকারি করা,খানিকটা খোঁচা দিয়ে কথা বলা,দুইএকটা
চিঠি,মোবাইলে আলাপন,Massage চালাচালি,প্রেম মেশানো কবিতা প্রেরণ
চলে থাকে।তবে এর চেয়ে বেশি এগুনো বোকামি।আবেগের বশে নিলে ভুল
হয়।পরে এই ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয় মন।তবে এর জন্য প্রাকৃতিক
সুরক্ষাও আছে।কৈশোরের প্রেম ক্ষণস্থায়ী,এটি বদলায়।একি নিজেকে
ভালবাসার মত যার প্রতিফলন ঘটে অন্যর উপর।প্রেমের টানে অনেকের দড়ি
ছিড়ে যায় পরে ভুল ভাঙ্গে,আফসোস করে।আস্তে আস্ত অভিজ্ঞতা,মূল্যায়ন
বাড়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার ক্ষমতা আসে।টিনএজে আবেগের
বশবর্তী না হয়ে যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিবেচনা করতে পারলে ভবিষ্যত জীবন
সুষমামন্ডিত হয়।
Part 5
টিনএজ দানব :টিনএজ বয়স উপলব্ধি,ভুল করার বয়স.ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার বয়স।
এই উঠতি বয়সে আবেগর বশে অনেকে ভুল করে ফেলে।দেহের দানবের জেগে
ওঠা ওলটপালট করে দেয় অনেক টিনএজারকে।বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি
দুর্নিবার আকর্ষণে অনেক টিনএজার মারাত্মক ভুল করে ফেলে।বিশেষ করে
কিশোরীদের সামনে বিপদ থাকে বেশি।তাদের অতি পরিচিত কারো
সাথে অনৈতিক সম্পর্ক তাদেরকে আচমকা ধাক্কা দেয়।বাধা দেওয়ার আগে
এটা ঘটে যায় আর স্রোত এসে সবকিছুকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।বেপরোয়া এই
সাময়িক আবেগ দুমড়ে মুচড়ে দেয় পরবর্তী সব কিছুকে।বিপদ এসে দরজায় কড়া
নাড়ে,টিনএজ মনে তুফান আসে।অশুভ আত্মা যেন তার উপর ভর করে.নিজেকে
সারাক্ষণ অপরাধী মনে হয়,নিজের দেহের প্রতি জাগে ঘৃণা,মনের উপর চাপ
পড়ে,জীবনের আনন্দ হারিয়ে যায়,সব কিছুকে বিরক্তিকর মনে হয়,ঘুমের সমস্যা
দেখা দেয়,মেয়েদের মাসিক অনিয়মিত হয়।বয়ঃসন্ধিকালে
হাইপোথ্যালামাসের একটি অংশের কর্মকান্ডের ফলে টিনএজ মনে জোয়ার
আসে।তাই ভেঙ্গে যেতে পারে নৈতিকতার বাঁধ।অনেক কিশোর কিশোরী
গর্তে পা দিয়ে শেখে।কিশোর কিশোরীরা যাতে ভুল না করে সেজন্য
বাবা মাকে সতর্ক হতে হয়।পাঠ্যপুস্তকে টিনএজের যাবতীয় পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত
করা গেলে টিনএজাররা নিজেদের সম্পর্কে জানতে পারবে।তারা ভুলের
পথে পা বাড়াবে না এবং পরে অনুতাপের আগুনে দগ্ধ হবে না।
" টিনএজে বিষণ্ণতা "
রিয়ার আচরণের আকস্মিক পরিবর্তন দেখে তার বাবা মা চিন্তিত।কয়েকদিন
আগেও যে হাসিখুশি থাকতো,বন্ধুদের সাথে বেড়াতে যেত,ছোট ভাইটির
সাথে খুনসুটিতে ব্যস্ত থাকতো,যার মাথায় নতুন নতুন Idea কিলবিল করতো সে
কেন এমন হল?রিয়া এখন বড্ড চুপচাপ,সারাক্ষণ নিজের ঘরে থাকে,কারো
সাথে ঠিকমত কথা বলে না,ঠিকমত খাবার খায় না,বন্ধুদের ফোনের জবাব দেয়
না,বাবা মা কিছু বলতে এলে উগ্র মেজাজ দেখায়।যে রিয়ার কথা বললাম
সে বিষণ্ণতায় (Depression ) আক্রান্ত টিনএজারদের প্রতিনিধি।টিনএজ
বিষণ্নতার অন্যান্য লক্ষণগুলো নিম্নরুপ
#নিরাশায় ডুবে থাকা
#জীবন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা
#সামান্য কারণে অশ্রুবর্ষণ
#সবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া
#সকল কর্মকান্ডের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা
#ঘুমের সমস্যা
#নিজেকে গুরুত্বহীন ভাবা
#নিজেকে অপরাধী ভাবা
#আত্মহত্যার চিন্তা করা
টিনএজারদের Depression তথা বিষণ্ণতার কারণ বিশ্লষণ করলে দেখা যায় তারা
নিজেদের সমস্যাগুলোকে বড় করে দেখে।আসলে তাদের অভিজ্ঞতা কম বলে
জীবনের পূর্ণরুপ দেখতে পায় নি।টিনএজাররা কল্পনার সাগরে নিজেদের
ছোট তরী ভাসিয়ে দেয়।যখন তাদের কল্পনার সাথে বাস্তবতার সংঘাত ঘটে
তারা হয়ে পড়ে হতাশ।সামান্য ঢেউ লাগলে তাদের তরী দুলে ওঠে,তুচ্ছ
বাধাকে তারা বিপর্যয় হিসাবে নেয়,হতাশা এসে ঘিরে ধরে,নৈরাশ্য
বাসা বাধে তাদের মনে,বিষণ্ণতা টিনএজারদের আলোকময় জগতকে কালো
মেঘে ঢেকে দেয়।দীর্ঘদিন এই অবস্থা থাকলে টিনএজাররা নিজের স্বপ্ন ও
দায়িত্ব থেকে ছিটকে যেতে পারে,জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আগেই বলতে
পারে " I Quit ".এরকম পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয় তার জন্য বাবা মাকে সতর্ক
হতে হয়।সন্তানদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া,তাদেরকে বেশি সময়
দেওয়া,তাদের চাওয়া পাওয়া উবলব্ধি করা,সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে
বেরোনো প্রভৃতি কর্মকান্ড করতে হবে।সন্তানের অবস্থা গুরুতর হলে তার জন্য
সাইকোথেরাপির ব্যবস্থা করতে হবে।
Part 6
টিনএজদের অভিযোগ কেউ নাকি তাদের বোঝে না :টিনএজাররা অভিযোগ
করে কেউ তাদের বোঝে না বা বুঝতে চায় না।অনেকে চায় তাদের চোখের
ইশারায় বা না বলার আগেই বাবা মা তাদের চাওয়া পাওয়া বুঝে ফেলুক।
কিন্তু বেশিরভাখ সময়ই এটা হয় না।এটা বাবা মায়ের অক্ষমতা নয়।আসলে
তাদেরকে হাজারো সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়।পরিবারের
ভরণপোষণ,চাকরিক্ষেত্র,আত্মীয় স্বজনের দেখা শোনা,নিজেদের দাম্পত্য
সমস্যা,জীবনযাপনের ক্লান্তি এসব কারণে তারা অনেক সময়ই নিজ সন্তানের
চাওয়ার দিকে নজর দিতে পারেন না।পারলেও মাঝে মাঝে তাদেরকে
উপেক্ষা করতে হয়।বাড়িতে টিনএজার থাকা মানে যেন একটা চেরনোবিল
পারমাণবিক চুল্লী থাকা যেটা যে কোন সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।
টিনএজ আগ্নেয়গিরির লাভা সবকিছুকে ভস্মীভূত করে দিতে পারে।
টিনএজারদের মেজাজ যথন তখন সামান্য কারণে টঙে চড়ে।বাবা মায়ের
সামান্য কথাতেই তারা রেগে ওঠে।ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুর করে।
টিনএজারদের অভিমানও প্রবল।দেখা যায় মূল বিষয় বুঝতে না পেরেই তারা
ধরে নেয় তাদের অবহেলা করা হচ্ছে।তাদের এই অভিমান ভাঙতেও খুব দেরি
হয় না।টিনএজাররা অযৌক্তিক আবদার ধরতে ওস্তাদ।তারা অহঃরহ নতুন
মডেলের দামি হ্যান্ডসেট,মোটরসাইকেল দাবি করতে থাকে।না পেলে
তারা বাঁকা পথের আশ্রয় নেয়।খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়,সারাক্ষণ মুখ ভার
করে থাকে.স্কুল/কলেজে যায় না,কারো সাথে ঠিকভাবে কথা বলে
না,নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে পড়ে থাকে।বাবা মাকে ফাঁদে ফেলে
কার্যসিদ্ধির এই প্রক্রিয়ার নাম Emotional Blackmailing.
এই বয়স ঝকমারির বয়স।বাবা মায়ের সাথে,ভাইবোনের সাথে খিটিমিটি
লেগেই থাকে এবং ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।এই ভুল বোঝাবুঝি থেকে
বাড়িতে অশান্তি চরমে ওঠে।টিনএজার সর্বদা বলতে থাকে কেউ তাদের মন
বোঝে না,তাদের ব্যথা উপলব্ধি করতে পারে না।ক্ষোভে,অভিমানে অনেক
সময় তারা বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে,রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে।
এসব পাগলামি টিনএজাররা হঠাত্ আসা আবেগ ও রাগের বশে করে।
Part 7
1932 সালের ফোর্ড মডেল 18:বর্তমানের তথাকথিত আধুনিক তরুণ তরুণীদের ধারণা
তাদের বাবা মা Back-dated.বাবা মা নাকি 1932 সালের ফোর্ড মডেল 18 আর
তারা নিজেরা নাকি BMW M3!!পুরনো.বস্তাপঁচা.প্রাগৈতিহাসিক এইসব শব্দ
আজকালকার young generation তাদের পিতামাতার উপর প্রয়োগ করে।বাবা
মাকে নিয়ে তাদের হাজারো অভিযোগ।তারা নাকি তাদের বন্ধুদের
বাবা মায়ের মত স্বাধীনতা দেয় না,নিজের ইচ্ছামত ঘুরতে দেয় না,খাওয়ার
জন্য পীড়াপীড়ি করে,সব ব্যাপারে খবরদারী করে,বারবার পড়তে
বলে,ঘুমাতে যেতে বলে,প্রিয় সিনেমা বা টিভি সিরিয়াল দেখতে দেয়
না।এসব কিছু টিনএজারদের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়।
টিনএজাররা এর ওর বাবা মায়ের সাথে নিজের বাবা মায়ের তুলনা করে।
নিজের বাবা মায়ের অনেক কিছুই তাদের পছন্দ হয় না।বাবা লোকটা শুধু হৈ
চৈ করে,যখন তখন বিনা কারণে ডাকাডাকি করে।মা সংসারের সমস্যা
নিয়ে ঘ্যান ঘ্যান প্যান প্যান করে,বাবা মা হাতখরচ দিতে কৃপণতা করে -
অভিযোগের কি অন্ত আছে??
টিনএজাররা সহজে বাবা মায়ের গুরুত্ব বুঝতে পারে না।যখন পারে তখন কেঁদে
বুক ভাসায়।ঐ বোকা,রগচটা,পক্ষপাতদুষ্ট বাবা মায়েরা ই যে তাদের প্রকৃত
শুভাকাঙ্খী এটা বুঝতে টিনএজারদের দেরি হয়।তাদের মনে পড়ে যায়
নিজেদের অসুখে বাবা মায়ের নির্ঘুম রাত্রি জাগরণ,নিজেদের ব্যর্থতায়
তাদের নিরব অশ্রুবিসর্জন,নিজেদের সুখের জন্য বাবা মায়ের শত আত্মত্যাগ।আজ
হয়তো বাবার রাগের জন্য তার প্রতি ঘৃণা জন্মে,মায়ের শাসনকে বাড়াবাড়ি
মনে হবে তবে একসময় এসবের কথা ভেবেই টিনএজারদের চোখের কোণে অশ্রু
জন্মে।
Part 8
টিনএজে ফোবিয়া :টিনএজারদের অনেকের ভেতর নানা কারণে ভীতি
কাজ করে।বিশেষ কোন ক্ষেত্রের প্রতি তাদের এই ভয় দেখা যেতে পারে
হয়তো বাকি সব ক্ষেত্রে তারা পুরোপুরি স্বাভাবিক।তারা তাদের
চিন্তা,চেতনায় ও আচরণে এই ভয় প্রর্দশন করে।এই উদ্বেগ মূলত একপ্রকার
নেতিবাচক আবেগ।অগ্রিম শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা টিনএজারদের মন আলোড়িত
করতে পারে,তাদের ভেতর নানারকম উপসর্গের জন্ম দেয়।
পরীক্ষাভীতি: অনেক টিনএজার আগত পরীক্ষা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করে।
তাদের মনে হয় পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো হয় নি,কিছুই মনে থাকছে না,পড়ায়
মনোযোগ দিতে পারছে না,গলা শুকিয়ে আসে,বুক ধড়পড় করে।তারা পড়তে
পড়তে বারবার পড়ার টেবিল থেকে উঠে যায় কিছুক্ষণ বাদে আবার ফিরে
আসে,তারা অস্থিরতায় ভোগে।এই অস্থিরতা ও অনর্থক ভীতি তাদের
পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব ফেলে।অনেক টিনএজার রাতে ঘুমাতে পারে না।
স্বপ্ন দেখে যে সে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে কিন্তু কোন যানবাহন পাচ্ছে না
বা জ্যামে আটকে গেছে,পরীক্ষা হলে দেরিতে পৌছিয়েছে,প্রশ্ন কমন পড়ে
নি,কলমে দাগ পড়ছে না ইত্যাদি হাজারো দুঃস্বপ্ন তার মাথায় এসে ভিড়
করে।টিনএজারদের উচিত এই অহেতুক ভয় পরিহার করে পড়ায় মনোযোগ
দেওয়া,উদ্বেগকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করা এবং চিন্তামুক্ত
জীবন নির্বাহ করা।
ডাক্তার হতেই হবে : সবার যোগ্যতা যে সমান হয় না একথা অনেক বাবা মা
মানতে নারাজ।তাদের মতে ঐ ছেলে যদি ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারে তবে
তাদের ছেলে কেন পারবে না?বাবা মায়ের কাছে একটা প্রশ্ন রাখা যায়
'ক্লাসের সব ছেলের বাবা মা যদি একই কথা বলে তবে ক্লাসে
সেকেন্ড,থার্ড হবে কে?আর কোন বাবা মায়ের ছেলে লাস্ট হবে?কিছু কিছু
বাবা মা তাদের সন্তানের জন্মের আগেই ঠিক করে রাখে তাদের সন্তান
ডাক্তার বা ইজ্ঞিনিয়ার হবে।তাদের উদ্দেশ্য সাধু এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ
নেই।কিন্তু তাদের সন্তানের যোগ্যতার দিকটিও তো দেখা উচিত।তাদের
সন্তান কি যায়?কতটুকু তাদের সামর্থ্য এটা ভুলে গেলে চলবে না।ছোটবেলা
থেকে বাবা মায়ের চাপ খেতে খেতে বেশিরভাগ টিনএজার ভেতরে
ভেতরে ভেঙ্গে পড়ে।যখন তারা দেখে তাদর নিজস্ব ইচ্ছাকে প্রাধান্য
দেওয়া হচ্ছে না তখন অনেক টিনএজার ফেটে পড়ে বিদ্রোহ করে আবার
অনেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।এই গুটিয়ে যাওয়া টিনএজারদের ভেতর
সর্বদা একটা ভীতি কাজ করে।এতে করে তাদের স্বাভাবিক জীবনধারা ও
মানসিক বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।ভয়ের কারণে তারা তাদের স্বাভাবিক
যোগ্যতাটুকুও হারিয়ে ফেলে।
Part 9
সামাজিক ভীতি :সালমান নামে এক টিনএজারের গল্প দিয়ে বিষয়টা শুরু
করা যেতে পারে।সেদিন ছিল সালমানের চাচাত বোন রিমির জন্মদিন।
সালমানের আপু সালমানকে আগেই বলে রেখেছিল যে পরিবারের সবাই সেই
অনুষ্ঠানে যাবে তাই সালমানকেও যেতে হবে।সালমান তখন হ্যাঁ না কিছুই
বলে নি।যাবার সময় দেখা গেল সালমানকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে
না।সালমান যেন বেমালুম গায়েব।আসলে সালমান কোন সামাজিক
অনুষ্ঠানে যেতে ভয় পায় তাই সে এগুলো এড়িয়ে চলে।এই সালমানরা সবার
সামনে যেতে ইতস্ততবোধ করে,তার বুক ধড়ফড় করে।সবাই তাকে পর্যবেক্ষণ
করবে,তার সমালোচনা করবে,তাকে নিয়ে অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হবে এই
ভয়ে সালমানের মত টিনএজার সামাজিক কোন অনুষ্ঠান যায় না।এ ধরণের
টিনএজাররা অন্তর্মুখী স্বভাবের হয় এবং নিজেদের আবেগ অনুভূতির কথা ব্যক্ত
করতে পারে না।
অন্ধকার ভীতি : অনেক টিনএজারের মনে অন্ধকার নিয়ে ভীতি কাজ করে।
এরা অন্ধকার সহ্য করতে পারে না।বিশেষত অনেক মেয়ে নানাকারণে এই
ভীতির শিকার হয়।তারা রাতে বাতি নিভিয়ে ঘুমাতে পারে না বা হঠাত্
লোডশেডিংয়ে চিত্কার করে ওঠে।এই ভীতির পেছনে শৈশবের দুঃসহ স্মৃতি
বা অন্য কোন অপ্রীতিকর ঘটনা দায়ী।
এছাড়া অনেক টিনএজার মাকড়সাকে ভয় পায়,অনেকে ঘরের বাইরে
যেতে,লিফটে উঠতে ভয় পায়,ঘরের দরজা বন্ধ করে অনেক টিনএজার ঘুমাতে
পারে না।এসমস্ত ভয়ের দরুণ নানারকম শারীরিক উপসর্গও দেখা দেয়।হার্টের
গতি বেড়ে যায়,শ্বাসপ্রশ্বাস ও পেশীর টান দ্রুততর যায়,ক্ষরিত হয় Adrenalin
Hormone.
টিনএজারদের এইসব ভয় জয় করে বেরিয়ে আসতে হবে উজ্জ্বল আলোয়।ভয়ের
কারণে অনেকে জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে,শারীরিক নানা অসংগতির উদ্ভব
হয়।ভয়ের কারণ অনুসন্ধান করে ভয়কে হাসির পাত্রে পরিণত করতে হবে।
প্রয়োজনে মনোচিকিত্সকের সাহায্য নিয়ে ভয়ের তিমির টুটাতে হবে।
Part 10
টিনএজ ও ফ্রি টকটাইম :মোবাইল ফোন টিনএজারদের কোন অবস্থায় নিয়ে
গেছে এটা ভাবতেও শঙ্কা লাগে।মোবাইল ফোনের কল্যানে অনেক
টিনএজারের n সংখ্যক প্রেমিক /প্রেমিকা হয়। (যেখানে n একটি স্বাভাবিক
সংখ্যা )।টিনএজারদের ফোন কথা বলার চোটে গরম হয়ে যায় তবুও তাদের কথা
বলায় ক্লান্তি আসে না।এদের মোবাইল sim এর সংখ্যা অসংখ্য।এরা কয়েকটা
সিম বন্ধ রাখে,কয়েকটা নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার করে।এদের কাছে যে পরিমাণ
সিম জমা হয় তা কিছুদিন পর কেজিদরে বিক্রি করা যায় (বরবটি শিমের মত )।
বর্তমানের কতক তরুণ তথাকথিত স্মার্টনেস প্রদর্শনে আর সহপাঠী ও এলাকার
সুন্দরী মেয়েদের ফোন নাম্বার জোগাড়ে অনেকটা সময় ব্যয় করে।অনেকে
তো ইচ্ছামত নাম্বার ডায়াল করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা চালিয়ে যায়।এ
প্রসঙ্গে একটা কৌতূক উল্লেখ করা যেতে পারে।এক মেয়ে ফোনে অত্যন্ত
আসক্ত ছিল।একবার ফোন ধরলে দুই ঘণ্টার নিচে তার কথা শেষ হত না।একবার সে
আধাঘণ্টায় কথা শেষ করলো দেখে মেয়েটির বাবা অবাক হয়ে কারণ
জিজ্ঞেস করলো।মেয়েটি তখন জবাব দিল ওটা রং নাম্বার ছিল।
এই যদি হয় অবস্থা তবে মুঠোফোনের পরিণতি সহজেই অনুমেয়।টিনএজারদের ঘুম
কেড়ে নিচ্ছে মোবাইল ফোন।তরুণ তরুণীরা good evening দিয়ে কথা শুরু করে
কিন্তু good morning বলার পরও তাদের কথা শেষ হয় না।রাতে ঠিকমত না
ঘুমানোর কারণে পরদিন অনেকে ঠিকমত ক্লাস attend করতে পারে
না,শিক্ষকের লেকচারে মন দিতে পারে না,তাদের স্মৃতিশক্তির ঘাটতি
দেখা যায়।ফলশ্রুতিতে পরীক্ষার ফল খারাপ হয়।
অনেক টিনএজার রাতে কথা বলার ক্ষেত্রে একটু ভিন্ন পথের আশ্রয় নেয়।
রাতের প্রথম প্রহরে তারা ভদ্র সেজে থাকে আর পড়ার ভান করে এবং ঠিকমত
খেয়েদেয়ে বিছানায় চলে যায়।বাবা মা ভাবে কি ভালো ছেলে/মেয়ে
তাদের।বাবা মা ঘুমানোর পর শুরু হয় এদের আসল খেলা।
রাত জেগে কথা বলার কারণে তাদের দেহ ও মনে নেমে আসে অবসাদ।রাতে
মুঠোফোন অন করে ঘুমাতে গেলে তাদের অবচেতন মন খোলা থাকে।সেই
অবচেতন অংশ প্রিয়জনের ফোনকলের ও massage এর অপেক্ষায় থাকে।এই কারণে
মস্তিষ্কের কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়,মনঃসংযোগের অভাব দেখা দেয়।
মোবাইল ফোনের বিষয়ে একটা কথাই বলা যেতে পারে যে এর নিয়ন্ত্রিত
ব্যবহারই পারে টিনএজারদের আলোর পথে নিয়ে যেতে।মোবাইল ফোনের
আসক্তি কমাতে পারলে মহত্কাজে আত্মনিয়োগের অনেক সময় পাওয়া যায়।

Post a Comment

0 Comments