একুশে পদক বিজয়ী মুরাদনগরের আবুল হাশেম


www.mamin71.com Monday, February 17, 2020 0
২০১১ সালে একুশে পদক লাভ করেন ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের মধ্যে সমাজসেবায় পদক পান অধলহাজ্ব আবুল হাশেম। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের চাপতলায়। রাজা চাপিতলা নামেই লোকজন বেশি চিনে। সমাজসেবায় তিনি গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তিনি একজন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী। তিনি ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। অসহায় ও আর্ত পিড়িত মানুষের কল্যাণে তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় সময় কাটিয়েছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাকে সবসময় ব্যাথিত করে। তাদের আর্তনাদ- আহাজারি তিনি হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করেন। তাদের জন্য চোখের পানি ফেলেন। সহায়তার হাত বাড়ান। অকাতরে বিলিয়ে দেন নগদ অর্থ।
山একুশে পদক বিজয়ী মুরাদনগরের আবুল হাশেম
山একুশে পদক বিজয়ী মুরাদনগরের আবুল হাশেম
জনাব অধবুল হাশেম ১৯২২ সালের ২৫ এপ্রিল মুরাদনগরের রাজা চাপিতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম বদিউল আলম এবং মায়ের নাম অজিফা খাতুন। বাবা চাকুরী করতেন ঢাকায় । এ কারণেই ৬ বছর বয়সে তাকে গ্রাম ছাড়তে হয়। তিনি শিক্ষা জীবন শুর করেন মাহুতটলিী ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে। তারপর আগামসী লেনে ইসলামিয়া হাইস্কুলে ২ বছর বংশালের সিটি হাইস্কুলে , এছাড়া বকশিবাজারের নবকুমার হাইস্কুল থেকে ১৯৪৩ সালে এন্ট্রাস পাশ করেন। জীবন সংগ্রামী হাশেম ১৯৪৮ সালে আদিল খলিল এন্ড কোম্পানীতে চাকুরি নেয়ার মাধ্যমে কর্মজীবন শুর করেন।
জনসেবার শুরুটা হয়েছিল ১৯৫৬ সালে, মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জে বাবার নামে, বদিউল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে। তারপর ১৯৬৪ সালে বাখর নগর হাশেমিয়া ইসলামীয়া সিনিয়র মাদরাসা, ১৯৭০ সালে কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ, চাপীতলা অজিফা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯৭১ সালে মুরাদনগর নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হোমনায় কাশীপুর হাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯৭২ সালে হোমনার রামকৃষ্ণপুরে কামাল স্মৃতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ফেনীর পরশুরামে দক্ষিণ রাজেসপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ রাজেসপুর করিমিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ, ১৯৮৬ সালে হোমনায় রামকৃষ্ণপুর কলেজ, ১৯৯৩ সালে মুরাদনগরে সলপা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কচুয়ার পাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০০৩ সালে মুরাদনগরে অজিফা খাতুন জামে মসজিদ, ২০০৪ সালে ফুলগাজী দক্ষিণ রাজেশপুর থানা জামে মসজিদ ও ২০১০ সালে ঠাকুরগায়ের মিলনপুরে নুরুন্নহার হাশেম স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
হাজী হাশেম সাহেব রাজনৈতিক অঙ্গনের বেশ পুরনো লোক। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের তারিখ এগিয়ে আসলে মুরাদনগরের কয়েকজন তাকে জনগণের খেদমতের জন্য ( মুরাদনগর ও হোমনা থেকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। হাশেম সাহেব বলেলন, আমার জয়লাভের পর আমি বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করতে যাই। তখন সেখানে কর্নেল ওসমানী ছিলেন। তাকে আমি বল্লাম আমি আপনার চেয়েও মোট ১০ হাজার ভোট বেশি পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু তখন তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানালেন। তিনি বলেন এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দদায়ক ঘটঁনা।
প্রথমে তিনি বাঞ্ছারামপুরের বিভিন্ন গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতা করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ১৮ মে আগড়তলা যান। তখন তিনি হাফাইন্যা ও মেলঘর ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতা করেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীনের পর ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন। তিনি ১০০ টি চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের অয়োজন করেন ।এর মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার দরিদ্র লোকের চিকিৎসা, অপারেশন ও ঔষধের ব্যবস্থা করেন। একুশে পদক বাদেও সমাজসেবায় বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ২০০৬ সালে স্বামী স্বরুপানন্দ ফাউন্ডেশন পদক লাভ করেন। রাজশাহী মেট্রপলিটন প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ সংবর্ধনা দেয়া হয়। তিনি বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তার পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য দোয়ার দরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করি তিনি আবারও সুস্থ হয়ে সমাজসেবায় মনোনিবেশ করবেন।
মমিন মোল্লা . কুমিল্লা উত্তর।।
MAMIN71.COM
www.mamin71.com

Post a Comment

0 Comments