এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে রাষ্ট্রের ভূমিকা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৪ নং নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গুনজর গ্রামের বীর প্রতীক সুবেদার মনসুর আলী মুরাদনগরের গর্ব।
মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতিসত্তার সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায়। মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দেশ স্বাধীন না করলে আজ আমরা কোনোভাবেই নিজেদের স্বাধীন জাতি ভাবতে পারতাম না, পরাধীনতার শিকল হয়তো আমাদের আজো তাড়া করে বেড়াতো। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীকে বিতারিত করার মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিনিয়ে এনেছে। ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমাদের এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধারা কখনো তাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেননি। বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনমান উন্নয়নে নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তাদের বাসস্থান, অভাব-অনটন, চিকিৎসাসেবা, কোটাভিত্তিক সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আশা করি এই সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।বর্তমান সরকার সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ৯০০ থেকে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বছরে দুটি উৎসবভাতা প্রদান করছে। বিভিন্ন শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, শহীদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করে মাসিক সর্বনিম্ন ২৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা হারে ভাতা দেয়া হচ্ছে। ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা হারে প্রদান করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধারা প্রতি বছর ৫ হাজার টাকা বিজয় দিবস ভাতা ও ২ হাজার টাকা নববর্ষ ভাতা পাচ্ছেন। যা প্রশংসনীয়।
বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করছেন। আমি একজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে একজন মুক্তিযোদ্ধা রাখার জন্য। তাতে শিক্ষা খাতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পৃক্ততা বাড়বে। মুক্তিযোদ্ধারা যেমন স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে করে বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন তেমনি তারা শিক্ষা খাতেও শ্রম মেধা দিয়ে দেশের শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পারবেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে সেজন্য মুক্তিযোদ্ধারা বিনা খরচে, শিক্ষার্থীদের সামনে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পারবেন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। কীভাবে রাজাকার আলবদর দেশে গণহত্যা অগ্নিসংযোগ করেছে তাও সঠিকভাবে জানতে পারবে। কাদের অবদানে আজকে এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি শিক্ষার্থীদের তা জানতে হবে। আশা করি সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের আরো সম্মান দিয়ে অবশ্যই সর্বোচ্চ সম্মানের স্থানে রাখবে।
মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা এনেছেন, পরবর্তী প্রজন্মকে স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছেন। খুব স্বাভাবিক কারণেই মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সুন্দর অর্থনৈতিক জীবন ও সম্মান নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পরিশেষে বলছি, বাংলাদেশিরা একটি বিজয়ী জাতি। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান চিরস্মরণীয়। আমরা সর্বদা মাথা উঁচু রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো, কারো কাছে মাথা নত করে নয়।

0 Comments