স্যার আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দী ও বাখরনগর

আল্লামা স্যার ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দী (১৮৭০-১৯৩৫) ছিলেন আকধারে পÐিত, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, আইনজীবি, গবেষক, লেখক ও সম্পাদক। বাংলার এই মনীষীর কথা অনেকের স্মৃতি থেকে আজ বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ তার সময়ে খুব কম মুসলমানই ছিলেন যারা এমন গৌরবদীপ্ত মেধা ও মননের স্বক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।


            মনীষী আল্লামা স্যার ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দী ১৮৭০ সালে মেদিনীপুরে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়ার্দী বাহারুল উলুম (১৮৩২-৮৫) ছিলেন ঢাকা মহসীনিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপারিনটেনডেন্ট। উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়র্দীর পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার দাসপুর বøকের চিতওয়া গ্রাম। মেদিনীপুরের বিখ্যাত সোহরাওয়ার্দী পরিবারের পীর শাহ্ আমীনুদ’-দীন আহমাদ সোহরাওয়ার্দীর ছেলে উবায়দুল্লাহ সোহরাওয়ার্দীর সরকার প্রদত্ত খেতাব ছিল বহারুল উলুম ( জ্ঞানের সাগর) এবং ক্যানাম ছিল আল উবায়র্দী। উবায়দুল্লাহ সোহরাওয়র্দী ১৮৫৭ সালে কলকাতা আলিয়া মাদরাসা (১৭৮০) থেকে ফাইনাল পরিক্ষায় পাস করেন। ছাত্রজীবন শেষে তিন বছর (১৮৫৭-৬০) তিনি কলকাতার টানিহঞ্জের শাহজাদা আলালু’দ-দীন আহমাদের সহকারী হিসেবে কর্মে নিয়োজিত থাকেন। শাহজাদা জালালু’দ-দীন আহমাদ ছিলেন দাক্ষিণাত্যের হায়দ্রাবাদের (বর্তমানে ভারতের অন্ধপ্রদেশ) টিপু সুলতানের পৌত্র।


(স্যার আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়র্দী ও দ্য সেয়িংস অব মুহম্মদ)


            কলকাতার সামন’দ-দীন আহমেদ জ্যেষ্ঠা কন্যা মকবুল-উল-নেছা বেগমের সাথে ১৮৬১ সালে উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়ার্দীর বিয়ে হয়। সামীনু’দ-দীন আহমেদ ছিলেন টিপু সুলতানের পৌত্র শাহ্জাদা জালালু’দ-দীন আহমেদের খালাত ভাই। উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়ার্দী আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন। মকবুল-উন-নেছা বেগম হচ্ছেন আল্লাম স্যার ড. আবদুল্লাহ আল মামুন সোহরাওয়ার্দীর বিদুষী মা।


            উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়ার্দী ১৮৬৫ সালে হুগলী মহসীন কলেজে (১৮৩৬) আরবী বিভাগে অধ্যাপনায় গোগদান করেন। ১৮৬৫ থেকে ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি হুগলী মহসীন কলেজের অধ্যাপনাতেই ছিলেন। হুগলী মহসীন কলেজে তাঁর বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম মুসলিম বিচাপতি সৈয়দ আমির আলী (১৮৪৯-১৯২৮) স্যার জর্জ ক্যাম্বেল (১৮২৪-৯২) বাংলার গভর্নর (১৮৭০-৭৪) থাকা কালে তাঁর ্উদ্যেগে ১৯৭৪ সালে ঢাকা, চট্রগ্রাম ও রাজশাহীতে তিনটি মাদ্রাসা একগুগে প্রতিষ্টিত করেন। হুগলী মহসীন কলেজের অধ্যাপক উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়ার্দী ঢাকা মহসীনিয়া মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ লাভ করেন। হুগলী মহসীন কলেজের অধ্যাপনা ছেড়ে ঢাকায় এসে ১৮৭৪ সালে ১৬ই মার্চ সুপারিনটেনডেন্ট পদে যোগদান করেন। ১৮৮৫ সালে ফেব্রæয়ারি মাসের ৯ তারিখ শুক্রবার ফজর নামাজে সেজদারত অবস্থায় তিনি ঢাকায় মারা যান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি মাদ্রাসায় সুপারিটেনডেন্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বাংলা, আরবি, উর্দু ও ফারসি ইত্যাদি ভাষায় সুপন্ডিত উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়ার্দী পাঠ্যপুস্তকসহ ৫২ টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন (কয়েকটি গ্রন্থ অপ্রকাশিত)। মৃত্যুর পর তাকে ঢাকায় ঐতিহাসিক লালবাগ শাহী মসজিদ (১৭০৩) প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি ৩ স্ত্রী ও ৯ সন্তানসন্ততি রেখে যান।


            উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়দর্িীর সন্তানদের মধ্যে আল্লামা স্যার ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দী ছিলেন সবিশেষ খ্যাতিমান। তাঁর আরেক খ্যাতিমান সন্তান লে. কর্নেল স্যার ড. হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান উপাচার্স (১৯৩০-৩৪)। ডা. হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন ভারতীয় পূর্ব রেল এর প্রধান স্বাস্থ্য অধিকারিক। তিনি রেলওয়ে স্বাস্থ্য ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করেন। তিনি ইংল্যান্ডে ইস্ট লন্ডন মসজিদ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রেখেছিলেন। কলিকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নিয়ামক থাকাকালীন তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব বাংলার গভর্নর স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসনকে ১৯৩২ সালের ৬ই ফেব্রæয়ারি বিপ্লবী বীণা দাসের গুলির হাত থেকে বাচাঁন। এই সাহসিকতাপূর্ন কাজের পুরস্কারস্বরূপ সেই বছরই ডা. হাসান সোহরাওয়ার্দীকে নাইট উপাধী প্রদান করা হয়। ডা. হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন শেরে বাংলা একে ফজলুর হকের ভায়রা ভাই এবং কুমিল্লার থোল্লার জমিদার পীর আশরাফ আলী খানের অধস্তন পুরুষ নবাব সৈয়দ মোহম্মদ আজাদ খান বাহাদুরের কন্যা সেহর বানু বেগমের স্বামী। উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়ার্দী মেয়েদের মধ্যে খ্যাতিমান ছিলেন বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী। বিচাপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর সন্তান হচ্ছেন হাসান শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি ছিলেন।


            স্বামীর মৃত্যুর পর মকবুল-উল-নেছা বেগম অনেক কস্টে সকল সন্তানদেরকে সুশিক্ষত করেন। উবায়দুল্লাহ আল উবায়দী সোহরাওয়ার্দী ও মকবুল-উল-নেছা বেগম দম্পতির সন্তানদের সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান, আলোকিত মানুষ ও স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। স্কুল কলেজজীবনের প্রতিটি পরিক্ষায় তিনি বৃত্তি পেতেন ্এবং পুরুস্কার অর্জন করতেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে আরবি, ইংরেজি ও দর্শনে অনার্সসহ ১৮৯৮ সালে প্রথম শেনীতে প্রথম হয়ে বিএ পাস করেন। কলকাতা বিশ^বিদ্যালয় থেকে পরিক্ষা নিয়ে আরবিতে প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হয়ে তিনি এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ইসলামী আইন নিয়ে প্রথম গবেষণা করে ১৯০৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী দুজন ছাত্রের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তিনি তার বাবার মতোই জ্ঞানানুসন্ধিৎসু ছিলেন। তিনি লন্ডনের গ্রেস’জ ইন থেকে ব্যারিস্টার হন। একই সাথে তিনি লন্ডন বিশ^বিদ্যালয় থেকে আরও একটি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ফ্রান্স, জার্মানিক, অস্ট্রিয়া, কনস্টান্টিনোপল ও কায়রোতে অধ্যয়ন করেন। কলকাতার টালিগঞ্জের অভিজাত পরিবারের সদস্য সাহেবজাদা মির্জা মোহাম্মদ আলী নকীর কন্যা (একমাত্র সন্তান) সাজেবজাদী আহমেদী বেগমের সাথে তিনি পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।


            একজন সমাদৃত পÐিত ও শিক্ষাবিদ হিসেবে ১৯১১ সালে তিনি কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ে আরবি বিভাগের প্রধান ও ঠাকুর প্রফেসর অব ল’ নিযুক্ত হন। ১৩ সালে স্যার আশুতোষ মুখার্জি কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর কালীন বিশ^বিদ্যালয়ে ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দীর চাকরি গ্রহণের জন্য সুপারিশ করলেও রাজনৈতিক করণে সরকার এই প্রস্তাব সম্মত করেননি। সেই কারণে ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দী এই বিশ^বিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং রাজনীতিতে যোগ দেন।


            তার আগে লন্ডনে ছাত্র থাকাকালে তিনি প্যান ইসলামিক সোস্ইাটির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ছিলেন। ১৯০৯ সালে লন্ডনে মসজিদ আন্দোলনেও তিনি ভূমিকা রাখেন। বঙ্গীর প্রজা সমিতি থেকে তিনি বঙ্গীর অইন পরিষদে নির্বাচিত হন। তিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম লেজিসলেটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯২০ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত ্এর যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২০ সাল থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত তিনি মেদিনীপুর জেলা বোর্ডর ৃচেয়ারম্যান ছিলেন। আবদুল্লাহ আল মামুন সোহরাওয়ার্দী খিলাফত আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং ১৯২৪ সালে খিলাফত কমিটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।


            তিনি নবনূর ও কোহিনূর নামক দুইটি বাংলা সাময়িকীর নিয়মিত লেখক ছিলেন। তিনি মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী প্রতিষ্ঠিত ইংরেজি সাপÍাহিক দ্য হাবলুল মতিন পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থও রচনা করেছেন। তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে, ঞযব ংধুরহমং ড়ভ গঁযধসসধফ (ঝস), ঋরৎংঃ ংঃবঢ়ং রহ সঁংষরস লঁৎরংঢ়ৎঁফবহপব, গঁযধসসধফধহ খধি ড়ভ গধৎৎরধমব, ঞযব ইবধঁঃরবং ড়ভ ওংষধস, ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ঃযব ঊসঢ়বৎড়ৎ ংযধয অষধস, গরংঃড়ৎু ড়ভ গঁংষরস খবমধষ ওহংঃরঃঁঃরড়হং ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তার লিখিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ঞযব ংধুরহমং ড়ভ গঁযধসসধফ (ঝস) শিরোনামে ১৯০৫ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে প্যান ইসলামিক সোসাইটি থেকে প্রথম প্রকাশ করা হয়। ঞযব ংধুরহমং ড়ভ গঁযধসসধফ (ঝস) গ্রন্থটি ছিল তার প্রতিষ্ঠিত প্যান ইসলামিক সোসাইটির প্রথম প্রকাশনা। সংকলিত হাদিসের বইটি প্রকাশের পর পাঠকমহলে যথেষ্ট আলোড়ন ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়। ইউরোপের নানা ভাষায় বইটি অনূদিত হয়। বিশ^খ্যাত রাশিয়ান দার্শনিক, লেখক ও ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয়ের (১৮২৮-১৯১০) সাথে এ বিষয়ে ড. আবদুল্লাহ আল মামুন সোহরাওয়ার্দী নিয়মিত পত্রযোগাযোগ করতেন, যা টলস্টয়ের জীবনের শেষ দিন অবধি অব্যাহত ছিল।


            ড. আবদুল্লাহ আল মামুন সোহরাওয়ার্দী ১৯৩৫ সালের ১৩ই জানুয়ারি কলকাতায় মারা যান।


            ড. আবদল্লাহ আল মামুন সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর বিখ্যাত ্এই হাদিস সংকলনটির কোনো কপির আর সন্ধানই ছিল না। সোহরাওয়ার্দী পরিবারের সুহৃদ ছিলেন গৎ. ড. জ. এড়ঁৎষধু ঈ.ঝ.খ, ঈ.খ.ঊ, ষধঃব ড়ভ ঃযব ওহফরধহ ঈরারষ ঝবৎারপব, শবহনধহশ, উধৎষৎু, হবধৎ ঈধংঃষব উড়ঁমষধং, ঝপড়ঃষধহফ. স্কটল্যান্ড থেকে তার কাছে রক্ষিত একটি কপি তিনি ড. আবদুল্লাহ আল মামুন সোহরাওয়ার্দীর ছোটভাই লে. কর্নেল স্যার ড. হাসান সোহরাওয়ার্দীর (১৮৮৪-১৯৪৬) নিকট পেরণ করেছিলেন। দুষ্প্রাপ্য এই বইয়ের কপিটি পাওয়ার পর ১৯৩৮ সালে নভেম্বর মাসে এটি কলকাতার আর্ট প্রেস থেকে পুনর্মুদ্রিত হয়। তার আগে ড. আবদুল্লাহ আল মামুন সোহরাওয়ার্দীর জনৈক ভাগ্নে রাশিয় ভ্রমণে গিয়েছিলেন। টলস্টয়ের (১৮২৮-১৯১০) কন্যা তাতিয়ানা অর্থাৎ ঈড়ঁহঃবংং ঞধঃুধহধ খাড়াহধ ঞড়ষংঃড়ুড় (১৯৬৪-১৯৫০)- এর সাথে ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দীর ভাগ্নের সেখানে সাক্ষাৎ হয়। তখন লিও টলস্টয়ের কন্যা তাতিয়ানা তাকে বলেছিলেন যে, তার বাবা জীবনের শেষ সময়ে তার মা সোফিয়া আন্দ্রিয়েভনার প্রতি বিরক্ত ও অভিমানবশত বাড়ি থেকে হঠাৎ বের হয়ে গিয়েছিলেন। নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরের আস্তাপোভো রেলস্টেশনে পৌছার পর তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। সেখানে তাকে কেউ চিনতে পরেনি। এ অবস্থায় রেলস্টেশন মাস্টারের বাংলোতে ১৯১০ সালের ২০শে নভেম্বর ৮৮ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দীর সংকলিত ৪৫১টি হাদিস সংবলিত বিখ্যাত পুস্তক ঞযব ংধুরহমং ড়ভ গঁযধসসধফ (ঝস)- এর একটি কপি তার গায়ে জড়িয়ে থাকা ওভারকোটের পকেটে পাওয়া গিয়েছিল। উল্লেখ্য, টলস্টয়ের প্রতি বিরক্ত হয়ে সেই দেশের বাজক সম্প্রদায় একবার তাকে খ্রিস্টধর্ম থেকে বের করে দিয়েছিলেন। তার লেখনিকে রাশিয়ার জারও ভয় পেতেন বলে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি।তিনি ইসলাম ধর্মের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে তা জানার জন্য পড়াশোনা ও করছিলেন বলেই ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দীর সংকলিক ও অনুদিত ঞযব ংধুরহমং ড়ভ গঁযধসসধফ (ঝস) নামের বিখ্যাত হাদিস সংকলনটি তার নিকট পাওয়া গিয়েছিল বলে অনেকেই অনুমান করেন।


            ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দী সংকলিত ও অনুদিত বিখ্যাত পুস্তকটির প্রতি লিও টলস্টয়ের ভালোবাসার কথা সাধারণ পাঠকের গোচরে আসার ফলে দ্য সিয়িংস আব মুহাম্মদ নিয়ে প্রথম প্রকাশের দীর্ঘ ৩৩ বছর পরে পাঠকহৃদয়য়ে নতুন ভাবে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দিপনার সৃষ্টি হয়েছে। 


            ভারতের জাতির পিতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (১৮৬৯-১৯৪৮) ড. আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দী সংকলিত অনুদিত বিখ্যাত পুস্তকটি সে সময়ে পাঠ করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর মনে এই পুস্তক কী আলোড়ন তুলেছিল তা তার নিজের বর্ণন্ াথেকেই শোনা যাক।


          


Post a Comment

0 Comments